প্রথিবীর বাইরে

মার্চ ১৩, ২০১৯, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ৩১ বার পড়া হয়েছে

Loading...

মহাকাশ দিয়ে মানুষ গবেষণা শুরু করেছে বহু আগে থেকেই। অভিযান চালিয়েছে জ্ঞান পিপাসু মানুষ। এমনই একটি মহাকাশযান হচ্ছে গাঙচিল। ২১ জন যাত্রী নিয়ে ৭ বছর আগে পাড়ি জমায় মহাকাশে। পৃথিবীর মানুষ প্রায় ভূলেই গেছে তাদের কথা। কেউ ভাবতেই পারেনি যে গাঙচিলের সদস্যেরা এখনও বেচে আছে বা আবারও পৃথিবীতে ফিরে আসবে।

৯ মার্চ ২০১৯ নাম না জানা একটি গ্রহ। গ্যালাক্সির সবুজ একটি নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুর্ণায়মান গ্রহটিতে মূর্তির মতো ঠায় দাড়িয়ে আছে “গাঙচিল” নিস্তক্ব জড় পরিবেশ । দেখে মনেই হবে না যে এখানে রয়েছে ২১ জন জীবিত মানুষ।

এখানে আসার আগে ওরা জানত না যে এখানে প্রাণের বিকাশ সম্ভব। এই গ্রহটিতে তারা্ আছে পৃথিবীর হিসেবে প্রায় ৩ বছর ৪ মাস। গাঙচিলের ভিতরে সবাই ব্যস্ত। সবার ভিতরেই চাপা উত্তেজনা। কারণ কিছুক্ষণের মধ্যেই গাঙচিল পৃথিবীর উদ্দেশ্যে রওনা হবে। ডিজিটাল ঘরিতে সময় ৭:২০

ফ্রিজবি, তুমি কী জান আমাদের রওনা হতে আর কত সময় লাগবে? বলল শিখা “এইতো দেড় দুই ঘন্টা লাগবে। সবকিছু ঠিক আছে কিনা ভালো ভাবে চেক করে নাও” “আমি সব দেখে নিয়েছি” বলল দিশা।

“ভাবতেই পারছি না আমরা এত দীর্ঘ সময় ধরে এখানে বেঁচে আছি এবং আবার প্রথিবীতে ফিরে যেতে পারবো” ফ্রিজিবির পিছন থেকে বলে ওঠল রবিন।

“এই গ্রহে প্রাণের বিকাশ সম্ভব বলেই আমরা এতদিন বেঁচে আছি। আমাদের অক্সিজেন তো অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল” বলল দিশা।  আচ্ছা, এখানে থেকে গেলে হয়না?

“না হয়না” রেগে গেল ফ্রিজবি। তুমি জান আমাদের সংগ্রহ করা নমুনা গুলো পৃথিবীতে নিয়ে যাওয়া কতটা জরুরী ?

“ও, হ্যা। নমুনা গুলো আবারও দেখে নেয়া উচিৎ” বলল দিশা।

“আমি দেখে আসছি”। চলে গেল রবিন।

আসলেই অনেক অদ্ভত এগুলো। আলাদা ভাবে শ্রেনিবিন্যাস করা যাচ্ছে না। প্রাণি ও উদ্ভিদ উভয়ের বৈশিস্টিই রয়েছে। মানে? জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চাইল দিশা। ও এসব বিষয়ে বেশি কিছু জানে না।

“ওরা নিজ প্রয়োজনে প্রাণির মতো চলাফেরা করতে পারে। আবার উদ্ভিদের মতো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার সদৃশ কোনো প্রক্রিয়ায় নিজে খাদ্য নিজেরাই তৈরী করে।” “কিন্তু এগুলোকে প্রথিবীতে নিয়ে আমাদের কী লাভ?” “এগুলোর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হচ্ছে এরা খাদ্য তৈরী করতে CFC ব্যবহার করে।” “অসম্ভব।

এটা হতেই পারেনা” “তুমি ভূলে যাচ্ছ যে এটা পৃথিবীর কোনো জীব নয়” “এগুলোকে যদি আমরা পৃথিবীতে বাঁচিয়ে রাখতে পারি তবে ওজনস্তরের ক্ষয়রোধ করতে পারবো।” “কি ভাবে?বোকার মতো প্রশ্ন করলো দিশা।

“তুমি আসলেই অনেক বোকা” বলল ফ্রিজবি। তুমি কি জাননা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ওজনস্তর আস্তে আস্তে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।” “আর এই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারনই হচ্ছে CFC। আর তাই পৃথিবীতে CFC এর পরিমান কমাতে হলে আমাদের এই অদ্ভূত জীবগুলো প্রয়োজন” ফিজবির সাথে যোগ করণ জেবা।

এমন সময় দরজার পাশে এস দাড়াল আসলাম “তোমরা তৈরী হযে নাও আমরা এখনই রওনা হব” আর কথা না বাড়িয়ে সবাই নিজ নিজ স্থানে চলেগেলো। সবার চোখ জ্বলজ্বল করছে। জানালা দিয়ে গ্রহটাকে শেষ বারের মতো দেখেনিলো সবাই। জানালা থেকে চোখ সরালনা শুধু দিশা। জানার কাচের মধ্য দিয়ে একদৃষ্টে তাকিয়েই রইলো।

পৃথিবী যাত্রার উদ্দেশ্য নিয়ে আবার উড়তে শুরু করলো “গাঙচিল”।

নুসরাত জাহান

একাদশ শ্রেণী (বিজ্ঞান বিভাগ)

তৈয়বুন্নেছা খানম সরকারী কলেজ

 

 

 

 

 

loading...
error: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা আংশিক নকল করে বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি