কমলগঞ্জে এক স্কুল ছাত্রী ও এক কিশোরী মেয়ে ধর্ষণের শিকার

এপ্রিল ২০, ২০১৩, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ৫৭ বার পড়া হয়েছে

Loading...

23কমলগঞ্জ সংবাদদাতা- মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে এক স্কুল ছাত্রী ও শমশেরনগরের রাধানগর গ্রামের এক কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গছে। স্কুল ছাত্রী ও কিশোরীর মেয়ে ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি প্রভাবশালী মহল নানা তৎপরতা শুরু করেন। কিন্তু নির্যাতিতা ছাত্রীকে নিয়ে থানায় হাজির হয়ে সুবিচার দাবী করেন মা মনোয়ারা বেগম। এ ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর মামলা গ্রহন করে পুলিশ। গতকাল ২০ এপ্রিল শনিবার দুপুরে ভিকটিম স্কুল ছাত্রীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অপর কিশোরী মেয়েকে গ্রাম্য সালিশে ছেলের জরিমানা করে মেয়েকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় স্কুল ছাত্রী শিল্পীর বাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বখাটে সুহেল এবং গত ৭ এপ্রিল রাত ১টায় বেবী আক্তারের নিজ বাড়ীতে জোরপূর্বক ধর্ষন করে বখাটে নাজির মিয়া। কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মরহুম ফুল মিয়ার কন্যা মুন্সীবাজার কালী প্রসাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী শিল্পী বেগমকে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার পথে প্রায় সময় উত্ত্যক্ত করত ধর্মপুর গ্রামের আইন উল-্যার ছেলে সুহেল মিয়া। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে স্কুল ছাত্রী শিল্পীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বখাটে সুহেল। স্কুল ছাত্রী শিল্পীর মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ঘটনার পর থেকে ছেলেকে বাঁচাতে আইন উল¬্যার পক্ষ নেন স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে এ নিয়ে সালিশ বসে ধর্মপুর গ্রামের বশির মিয়ার বাড়িতে। সালিশে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মজিদসহ রামচন্দ্রপুর ও ধর্মপুর গ্রামের গণ্যমান্য বৃক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সালিশ বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় টাকার বিনিময়ে বিষয়টি আপোষ করার। টাকার বিনিময়ে আপোষ নিষ্পত্তি মানতে রাজি না হয়ে অবশেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় মেয়েকে নিয়ে কমলগঞ্জ থানায় হাজির হন মা মনোয়ারা বেগম। এ ব্যাপারে স্কুল ছাত্রী শিল্পী বেগম বাদি হয়ে কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলা রেকর্ড করে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য স্কুল ছাত্রীকে পাঠানো হয় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে।
এদিকে শমশেরনগর ইউনিয়নের রহমান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার কিশোরী মেয়ে বেবী বেগম (১৬) কে গত ৭ এপ্রিল রাত ১টায় তার ঘরের ভিতরে ঢুকে একই গ্রামের আলাল মিয়ার ছেলে নাজির মিয়া জোরর্পূব ধর্ষন করে। এ নিয়ে গ্রাম্য শালিশে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ৬০ হাজার টাকার মধ্যে ভিকটিমকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে আরও অভিযোগ করেন কিশোরী মেয়ের বাবা রহমান মিয়া। ধর্ষনের শিকার কিশোরী মেয়ে বেবী বেগমের হাসপাতালের ছাড়পত্র থেকে জানা যায়, ধর্ষনের পর গত ৭ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। সদর হাসপাতালের ডাঃ হাদী হোসেনের দেওয়া ছাড়পত্রে ধর্ষনের কথা উলে¬খ রয়েছে। গ্রাম্য শালিশে সু-বিচার না পেয়ে দীর্ঘ ১৩দিন পর কমলগঞ্জ মানবাধিকার কমিশনের মাধ্যমে সু-বিচার পাওয়ার জন্য বেবী বেগম আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন বলে কিশোরী মেয়ের বাবা রহমান মিয়া জানান। কমলগঞ্জ থানার ওসি নীহার রঞ্জন নাথ স্কুল ছাত্রীর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে কিশোরী মেয়ে ধর্ষনের কোন ঘটনা জানা নেই।

loading...