প্রতিজ্ঞাই সফলতার চাবিকাঠি

মার্চ ১১, ২০১৭, ১০:১০ অপরাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

Loading...

ছহুল আহমদ মকু, আইনজীবী, সুপ্রিমকোর্ট অব বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড:

স্কুল জীবন সবচেয়ে সুখের জীবন। নাই কোনো দায় বদ্ধথা। ওই সময় মনে হতো কবে হবো বড়, কবে হব সফলকাম ব্যক্তি। আমার স্কুল জীবন ছিল না শুধু বই-খাতায় সীমাবদ্ধ   বরং ছিল সামাজিক সহযুগিখা, খেলাধুলা, নাটক আর গান নিয়ে মাতলামি। তাছাড়া বড় কে সম্মান, বন্ধুদেরকে ভালোবাসা।

 

জুড়ী হাই স্কুল আমাকে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে জুড়ী হাই স্কুল আমাকে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছে । স্কুলের শিক্ষক মহোদ্বয়র শাসন, নীতিকথার উপদেশ, নির্দেশই, আজ আমার স্বপ্ন পূরণ করে দিয়েছে। আজ সম্মানের সাথে স্মরণ করছি তাদেরকে, বিশেষ করে সর্ব জুনাব দেওয়ান ইসমাইল আলী, মাহতাব উদ্দিন, দেওয়ান নুরুদ্দিন, বদরুল হোসেন, প্রদুতরঞ্জন দেব, কেরানিঃসার ও মৌলভী শিক্ষক।। আজ সম্মানের সাথে স্মরণ করছি তাদেরকে, বিশেষ করে সর্ব জুনাব দেওয়ান ইসমাইল আলী, মাহতাব উদ্দিন, দেওয়ান নুরুদ্দিন, বদরুল হোসেন, প্রদুতরঞ্জন দেব, কেরানিঃসার ও মৌলভী শিক্ষক।

 

ক্লাস নাইন নুরুদ্দিন স্যার ইংরেজি সাহিত্য পড়াতেন।  তিনি  লিও টলস্টয়ের “ইয়াং কিং” র  গল্প এমনভাবে পড়াতেন যা আমার মনের মধ্যে চিরদিনের মত লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। গল্পটির সারংশ ছিলো চায়নার এক  রাজপুত্র তার বাবার অমতে  গ্রামের কৃষকের মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করে বাবার রাজপ্রাসাদে তুলেছিল। মেয়েটি  প্রতিজ্ঞা করেছিল সে রাজপ্রাসাদে  থাকবে না, গ্রামে থাকবে আর গ্রামের সাধারণ মানুষকে কৃষিতে সাহায্য করবে।  শেষপর্যন্ত অনেক ঝামেলা পর রাজপুত্র বাবাকে ছেড়ে গ্রামে বসবাস শুরু করতে লাগলো আর দুজনে মিলে গ্রামকে কৃষিতে স্বনির্ভর করে তুলেছিল,, পরে রাজাও তাদের সাথে যুগদান করেছিলন। সেই থেকেই শিক্ষা পেয়েছিলাম যে “প্রতিজ্ঞাই সফলতার চাবিকাঠি “. আর সেই পাঠ থেকেই বুজতে পেরেছিলাম যে প্রতিজ্ঞা ছাড়া সফল হওয়া যায় না। সেই থেকে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বো, বড় হয়ে আইনজীবী হব, মানুষের সেবা করবো এবং বাস্তবে তা রূপ দিতে সক্ষম হয়ে ছিলাম পরম দয়ালু আল্লাহর অশেষ রহমত ও বরকতে। আর সেই সফলতার অন্যতম খুঁটি হল অন্তরঙ্গতা, যুগাযুগ শক্তি, নিয়ম নীতি, ভবিষৎ স্বপ্ন, সংস্কৃতি, স্বনির্ভরতা এবং সাফল্য ।

অন্তরঙ্গতা : জুড়ী স্কুলে আমি ধৰ্ম বর্ণ নির্বিষে পেয়েছি অন্তরবন্ধু। আজও অনেকের সাথে যোগাযোগ রয়েছে।  তারা হল বন্ডগাওঁর ফজলু , মানি সিংর সামাদ (পল্লী চিকিৎসক),মোবাশ্শির, পাতিলাসংর নজির (আমেরিকা প্রবাসী), বিশ্নাথপুরের মুজিব, মাসুক, জুড়ী বাজারের মৃত শেখর, মুনিম, শাহ আলম, ন্যাংটু, নাজিম-নিজাম, কামিনীগঞ্জ বাজারের জলি (আমেরিকা প্রবাসী), মৃত তারেকা, চায়না  ও সারী (আমেরিকা প্রবাসী), জহির আলী, মানিক, জাঙ্গিরাইর ফারুক (আমেরিকা প্রবাসী), বাসিরপুরের হরিধন (পল্লী চিকিৎসক), দিপ্তিরানী, কাশীনগরের বিশ্বজিৎ (শিওলা চা বাগানে কর্মরত), শিলুয়ার মৃত  শরীফ, চ।লবন্দের সানা এবং নামনাজানা আরও অনেকে। ওরাই আমার সত্যিকার বন্ধু।

 

যুগাযুগ শক্তি : আমার শিক্ষকরা আমার সাহায্য করেছেন কিভাবে লিখতে বা বলতে হয়। বদরুল স্যার সেকিয়েছেন কিভাবে তিতুমীর নাটকে অভিনয় করে শুদ্দ বাংলা কথা বলতে হয়।যা কলেজ বা উনিভার্সিটিতে কাজে লেগেছে। এভাবে মানুষের সামনে ভাষণ দেয়া শিখেছি

 

নিয়ম নীতি: সত্যি কথা বলতে নিয়ম নীতি শিখতে হয়েচে স্কুলে। বড় কে সম্মান করা। সঠিক কাপড় পড়া ইত্যাদি। আমার মনে আছে, একবার স্কুলে আদা ঘণ্টা দেরীতে আসা আর অমনি জুনাব দেওয়ান ইসমাইল আলী স্যার আদা ঘণ্টা আমাকে স্কুল মাঠে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন, আর বলেছিলেন কখনো স্কুলে দেরীতে আসবে না, তাহলে বড় হয়ে কর্ম জীবনে দেরিতে কাজে যাবে না।

 

ভবিষৎ স্বপ্ন : স্কুল জীবন থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু করেছি। একবার নবম ক্লাসে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছিলাম হিস্ট্রি ও জিওগ্রাফিতে, এ থেকেই আমার উত্তান শুরু হয়েছিলো। ওই অনুপ্রেণায় স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটি জীবন শেষ করেছি।

 

সংস্কৃতি: পড়াশুনার পরেই সংস্কৃতি ছিল আমার প্রাণ। আমি যখন স্কুল ক্যাপ্টেন ছিলাম তখন আমরা নাটক ও যাত্রাপালা আয়োজন করেছিলাম। আজও মনে পড়ে বাজারে নাটক চাঁদা তুলা আর মাসুক ও মাহবুবের জগড়া। আমরা বদরুল স্যার পরিচালিত “তিতুমীর” নাটক মঞ্চন্থ করেছিলাম। তিতুমীর ছিল হরিধন, জমিদার ছিল বিশ্বজিৎ, আমি ছিলাম তিতুমীরের প্রধান সেনাপতি, ফজলু ছিল দারোগা, সামাদ ছিল দেহ রক্কি।

 

স্বনির্ভরতা: পড়াশুনার পাশাপাশি স্কুল জীবনে খেলাধুলায় পুরস্কার পাওয়া, নাটকে অভিনয় করার মধ্যে দিয়া নিজেকে স্বনির্ভর করে তুলতে পেরেছি।

 

সাফল্য: আমার নিজের অনেক সাফল্য হয়েছে। যার সূত্রপাত জুড়ি হাই স্কুল থেকে সূচনা আর লন্ডনে শেষ। ব্যাক্তিগত সাফল্যের সাথে সাথে স্কুলের ছাত্রদেরকে সফলতা আনতে সাহায্য করেছি। যেমন ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় ছুটি হলে আমরা বাড়ি যেতাম ও স্কুলে ক্লাস নিতাম এবং ছাত্রদেরকে ভলান্টারিলি পড়াতাম। এতে করে ছাত্ররা অনুপ্রেণায় সাথে পাঠ করতো।

তাই আমরা জুড়ী হাই স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্ররা মিলে স্কুলের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান করে সবার দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রতিজ্ঞা করি যে, জুড়ীর মানুষকে বিভিন্ন কর্মকান্ডে সাহায্য করে জুড়ীকে আদর্শ উপজিলায় রূপ দেই। তাহলে স্কুলের শিক্ষা ঋণ কিছুটা হলেও শোধ করতে পারবো।

 

 

 

 

 

 

loading...
error: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা আংশিক নকল করে বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি