নিছক রুকু সিজদার নাম নামাজ নয়।

জুন ১৯, ২০১৭, ৯:১৬ অপরাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ১১৬ বার পড়া হয়েছে

Loading...

সে দিন আমার পাশে বসে রাগ করেছিলেন এক ভদ্রলোক। যাকে নিয়ে তার এত রাগ আর ক্ষোভ তার কথা বলতে গিয়ে এক পর্যায়ে তিনি আমাকে বললেন। এই লোক আবার নামাজও পড়ে কী লাভ এই নামাজের যদি ব্যবহারই ঠিক না হয়।

এই দিন আমিও থমকে গিয়েছিলামি তার উক্তি শুনে। সত্যিই তো আমরা কত মানুষকেই তো নামাজ পড়তে দেখি কিন্তু ক’জন নামাজের দাবি মেনে জীবনের সর্বক্ষেত্রে তা মেনে চলি। অফিস আদালতে কত নামাজি ব্যক্তিই তো দায়িত্বে ফাঁকি দিচ্ছে। ব্যবসায়ী ওজনে কম দিচ্ছে। নামাজি কত মানুষ অহরহ মিথ্যা বলছে অন্যকে ঠকাচ্ছে।

অথচ সৎভাবে জীবন যাপন সত্যকথা বলা অনাচার ও অসত্য থেকে বেঁচে থাকাও এসবই নামাজের দাবি। শুধু দাবিই নয় আল্লাহ পাক তো বলছেন। নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত রাখে। (আল ক্বোরআন) কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে নামাজের এ ফলাফল প্রকাশ হয় না কেন? নামাজ তো আমাদের মিথ্যা কথা ও খারাপ ব্যবহারকে বন্ধ করতে পারছেনা। তবে কে?

আমরা বেমালুম ভূলে আছি, নামাজ তো আমাদের মিথ্যা কথা তখনই সব মিথ্যা ও অসত্য থেকে দূরে রাখবে যখন তা সত্যিকারের নামাজ হবে। আরও সহজ ভাষায় নিছক নিয়ত করে রুকু ও সেজদার নামই কি নামাজ? কয়েকটি সূরা আর দু’আর সম্মিলিত রূপ দিয়েই কি নামাজ?

আরেকটু গভীরে এসে বুঝি আমাদের প্রত্যেকটি আমল আল্লাহর নিকট পৌছে একথা সত্য ও অনস্বীকার্য। কিন্তু আমল করার গুনাগুনের ওপর নির্ভর করে এর পরবর্তী প্রতিফলন, যেমন নামাজ আমাদের ওপর কর্তব্য। এখন কোন রকমে সঠিকভাবে তা আদায় করে কেউ শুধু তার কর্তব্য আদায় থেকে দায়িত্ব মুক্ত হল এবং বিনিময়ে সে কিছুই পেলনা। আরেকজন দায়িত্ব মুক্তির পাশাপাশি এর বিনিময়ে নির্ধারিত সওয়ার টুকু ও পেল তার সঠিক আদায় পদ্ধতির জন্য।

আরেকজন এর চেয়ে ও বেশি। তিনি তার ভেতরের অধিক সংযোগের ফলে শুধু দায়িত্বমুক্তি ও সওয়ার নয় বরং এর সঙ্গে জড়িত ও ঘোষিত সব বোনাস যেমন অনুভূতি বিবেকের গ্যারান্টি অশ্লীল ও অনাচার থেকে বেচে থাকার অফুরন্ত শক্তি, প্রশান্ত চিত্তে সবার জন্য কল্যানকামী হৃদয় এমন অসংখ্য গুনাবলী যা কেবল প্রকৃত নামাজির জন্য প্রাপ্য সব তিনি প্রাপ্ত হলে। আর ও শ্রেনির মানুষের দু’রাকাত নামাজ প্রথম দু’হাজার রাকাত নামাজের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ও কার্যকর দুনিয়া ও আখরাতে। সাহাবা ও বুযুর্গদের শত শত ঘটনা এর প্রমান আল্লাহ পাক বলেছেন এসব ইমানদাররা সফল যারা তাদের নামাযে একাগ্রচিত্ত ভিত্ত। (আল ক্বোরআন) কিন্তু কিসের গুনে এ তারতম্য? কে এ পার্থক্য? সরল কথায় নামাজ আদায়ের পদ্ধতির সঠিক জ্ঞান ও ব্যবহার সূরা কেরাতের বিশুদ্ধতা ধীর-স্থীরতা এবং নামাজ আদায়ের সময় একাগ্রচিত্তে স্রষ্টাকে স্বরন ও তার বড়ত্বের গুনাবলী হৃদয়ে সার্বক্ষনিক উপস্থিতি এসবের সমন্বয়ে নামাজ তখন নিছক কেবল রুকু সিজদার নাম নয় বরং তা হয়ে উঠে মহান আল্লাহ সাথে সরাসরি সাক্ষাত ও কথোপকথনের অপার্থির স্বাদ ও অনাবিল আনন্দের মাধ্যম।

এ নামাজ কেবল রুখতে পারে সব অনাচার ও অন্যায় থেকে। এজন্য রাসুল (সঃ) বলেছেন নামাজ শেষ করার পর কারো জন্য দশভাগের এক ভাগ সওয়ার লেখা হয়। করো জন্য নয় ভাগের এক ভাগ আট ভাগের এক ভাগ কারো জন্য অর্ধেক অংশ লেখা হয় আবু দাউদ রাসুল (সঃ) অন্যত্র বলেছেন মানুষ যখন নামাযে অন্য দিকে মনোযোগ দেয় আল্লাহ পাক ও তখন তার থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেন। এজন্যই এক বুযুগ বলেছেন আমাকে যদি বলা হয় তুমি জান্নাতে যাবে নাকি নামাজ পড়বে আমি বলব দু’রাকাত নামাজ আমার কাছে জান্নাতের চেয়েও আনন্দময় মনে হয়। কারন জান্নাত তো নিজেকে নিয়ে মত্ত ও ফুর্তি করার জায়গা। আর নামাজে তো আমি স্বয়ং জান্নাতের স্রষ্টার সাথে কথা বলতে পারি। নিজের অস্তিত্বের কথা এভাবে ভলে যাওয়া কি খুব সহজ? এমনি কি আর আল্লাহর রাসুল (সঃ) বলেছেন নামাজ মুমিনের জন্য মিরাজ স্বরূপ। অন্যত্র বলেছেন কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম এ নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যার নামাজ ঠিক পাওয়া যাবে। তার সব আমল ঠিক যার নামাজ ক্রটি দেখা দিবে। তার অন্যান্য আমল ও তেমনি হয়ে পড়বে। কাজেই সংক্ষিপ্ত এ জীবনে হয়ে পড়বে। কাজেই সংক্ষিপ্ত এ জীবনে যদি দুরাকাত নামাজ ও এভাবে আদায় করতে পারি, তাহলে তখনই কেবল অনূভূত হবে সঠিক স্বাদ ও আনন্দের অবনীয় অনুভব। যে অনুভবে ডুবে গিয়ে সারা রাত কাটিয়ে দেন জায়নামাজে কত পীর মাশায়েখ।

লেখক :- মোঃ তাজুল ইসলাম

loading...
error: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা আংশিক নকল করে বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি