ভরা পেটেও খাই খাই, বাতিক রোগের ইঙ্গিত

আগস্ট ১১, ২০১৭, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ২২১ বার পড়া হয়েছে

Loading...

স্বাস্থ্য ডেস্ক: কেন আমরা খাই খাই করি বলুন তো? ভরপেট খেয়েও পরক্ষণেই কিছু একটা বিশেষ খাবার খেতে ইচ্ছে হয়? চোখের খিদে হিসেবে ব্যাপারটা হালকাভাবে নেন অনেকেই। তারপর আবার খেয়েও ফেলেন! কিন্তু জানেন কি খাবার নিয়ে এই লোভ আসলে রোগের ইঙ্গিত? আসলে দেহে কিছুর অভাব দেখা দিলেই বিশেষ স্বাদ চায় জিভ।

খাই খাই বাতিক মিষ্টি
শরীরে ভিটামিন B12 বা প্রোটিনের ঘাটতি হলে মিষ্টি দেখলেই খাওয়ার ইচ্ছে বাড়ে
রোজকার ডায়েটে টাটকা ফল, সবজি, দারচিনি রাখলে মিষ্টির খাই খাই কেটে যাবে

খাই খাই বাতিক চা, কফি
দেহে সালফারের ঘাটতি হলে চা-কফির নেশা বাড়ে
পেঁয়াজ, রসুন, বাঁধাকপি ডায়েটে রাখলে মুক্তি পাওয়া সম্ভব

খাই খাই বাতিক চিজ
অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি হলে চিজ দেখলেই খেতে ইচ্ছে হয়
ডায়েটে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার যেমন ফ্লাক্সসিড অয়েল, বাদাম তেল বা আখরোটের মতো খাবার রাখলে সমস্যা মিটবে

খাই খাই বাতিক পাস্তা, পেস্ট্রি
শরীরে প্রয়োজনীয় ট্রেস এলিমেন্ট ক্রোমিয়ামের ঘাটতি হলে পাস্তা বা পেস্ট্রির মতো খাবার দেখলেই খেতে ইচ্ছে হয়
আঙুর, আপেল, পেঁয়াজ, টমেটো, দারচিনি বেশি করে খেলে ঘাটতি সামাল দেওয়া সম্ভব

খাই খাই বাতিক পাউরুটি বা টোস্ট
দেহে নাইট্রোজেনের ঘাটতির জন্য পাউরুটি বা টোস্ট খাওয়ার প্রতি ঝোঁক বাড়ে
ডায়েটে যত বেশি পরিমাণে সম্ভব প্রোটিন, সবুজ শাকসবজি, ফল, বাদাম রাখলে ঘাটতি মেটানো সম্ভব

খাই খাই বাতিক পপকর্ন
অতিরিক্ত স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থাকলে অনেকে বেশি করে পপকর্ন খান
বেশি পরিমাণ ভিটামিন C ও ভিটামিন B যুক্ত খাবার খেলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব

খাই খাই বাতিক চকোলেট
দেহে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি থাকলে চকোলেট খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না
দানাশস্য, কোকো পাউডার, বাদাম খেলে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি মেটানো সম্ভব

খাই খাই বাতিক সোডা
শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির কারণে সোজা খাওয়ার প্রতি ঝোঁক বাড়ে
তিল, ব্রকোলি, সর্ষে ক্যালসিয়ামের ঘাটতির পরিপূরক

খাই খাই বাতিক নোনতা খাবার
দেহে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, ডিহাইড্রেশনের কারণে নোনতা খাবার বা নুন খেতে ইচ্ছে হয়
ডায়েটে আদা, রসুন, গোলমরিচ, লেবু, ভিনিগার রাখলে সমস্যা মিটবে

কেন হয়
ছোটবেলায় অভিভাবকদের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সম্পর্কে অতি সতর্কবার্তা পাই। পরিবারের কারো হাইপোকন্ড্রিয়াসিস থাকলে বা কেউ সারা বছর ধরে অসুস্থ থাকলে, স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা, সমসাময়িক কারো মৃত্যু, নিজের মৃত্যুর পর পরিবারের কী হবে, এমন দুশ্চিন্তার ফলে এ রোগের সূত্রপাত হতে পারে।

চিকিৎসা
হাইপোকন্ড্রিয়াসিসেরও চিকিৎসা মূলত দুই ধরনের, যথা : ওষুধের মাধ্যমে ও সাইকোথেরাপির মাধ্যমে। সাইকিয়াট্রিস্ট এসএসআরআইয়ের মতো ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করেন। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টরা ক্লায়েন্ট বা রোগীর সার্বিক অ্যাসেসমেন্ট করেন, যেসব কারণে তাঁর রোগটি ভালো হচ্ছে না তা চিহ্নিত করেন এবং তাঁর চিন্তা ও প্রত্যক্ষণের ভুলগুলো পরিবর্তন করার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসা করলে রোগটি অনেকাংশেই ভালো হয়।

loading...