জুড়ী উপজেলার ইউসুফনগর গ্রামে ৬ সদস্যের পরিবারে ৫ জনই প্রতিবন্ধী (ভিডিওসহ)

নভেম্বর ৬, ২০১৭, ৫:৩১ অপরাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ৩৯০ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের ইউসুফনগর গ্রামের মৃত আহমদ মিয়া ও মাতা রোফিয়া বেগমের পুত্র মানসিক ভারসাম্যহীন দরিদ্র শফিকু মিয়ার ৬ সদস্যের পরিবারে ৪ সন্তানের সবাই জন্ম সূত্রে অন্ধ। পরিবারের মধ্যে মোটামুটি সুস্থ রয়েছেন শুধু মাত্র শফিক মিয়া স্ত্রী আমেনা বেগম। আমেনা বেগম কিছুটা শারীরিক সুস্থ থাকলেও স্বামী মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ায় পরিবারের সব সন্তানেরা জন্মগত অন্ধ হওয়ার কারণে আমেনা বেগম সীমাহিন অভাব গ্রস্থ হয়ে পরেছে। সরেজমিন ইউসুফ নগর গ্রামে শফিক মিয়ার বাড়ীতে গিয়ে স্থানীয় লোকজন ও তাদের কাছ থেকে জানা যায়, শফিক মিয়া ও আমেনা বেগমের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে কারো ছেলে-মেয়ে এরকম প্রতিবন্ধী নেই। শরিফুল মিয়া বিয়ের পর আমেনা বেগম ৪ সন্তানের মা হন। হনুফা বেগম (১৯), মামুন মিয়া (১৭) নিহাদ মিয়া (১৩) ও রাব্বি মিয়া (১০) এই ৪ সন্তানের জন্ম দেন। প্রথম সন্তান হনুফা বেগম জন্ম হওয়ার কয়েক মাস পর যখনব বুজতে পারলেন যে তাদের কন্যা সন্তানটি অন্ধ। জানার পর অভাব গ্রস্থ শফিক মিয়া গ্রামের বিভিন্ন লোকজনের কাছ হতে সাহায্য সহযোগিতায় ঢাকাস্থ ইস্পাহানী ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট এন্ড হসপিটালে কয়েক মাস চিকিৎসা করালে হনুফা বেগম চোখে দেখতে পারেনি। পরে মামুন মিয়া ও নিহাদ মিয়ার জন্ম হলে এরাও একি রকম জন্ম সূত্রে অন্ধ ভূমিষ্ঠ হয়। তাদের কে ও ঢাকাস্থ ইস্পাহানী ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট এন্ড হসপিটাল ও মৌলভীবাজার বি.এন.এস. বি চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা করালে কোন লাভ হয়নি। পরে আবারও শফিক মিয়া ও আমেনা বেগম একটি সুস্থ স্বাভাবিক সন্তানের আশায় সিন্ধ্যান্ত নেয় আরেকটি সন্তান নেওয়ার জন্য রাব্বি মিয়া নামের ৪র্থ সন্তান জখন আমেনা বেগমের গর্ভে সে সময় হঠ্যাৎ করে শফিক মিয়া মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পরে। শফিক মিয়া এমন ভাবে আক্রান্ত হয় যে তাকে শিকল দিয়ে কয়েক মাস তালা বন্ধ করে রেখে চিকিৎসা করা হয়। এর মধ্যে রাব্বি মিয়ার জন্ম হয় দেখা যায় সেও আগের সন্তানদের মত অন্ধ জন্ম হিসেবে জন্ম গ্রহন করেছে পরে ইউসুফ নগর গ্রামের প্রবাসীরা প্রায় ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে ফয়জুর রহমান মাষ্টারের মাধ্যমে মৌলভীবাজার, সিলেট ও ঢাকার কয়েকটি চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পরও কারো চক্ষুতে দৃষ্টি ফিরাকে পায় নি। এর পর থেকে প্রায় ১০ বৎসর হয় শফিক মিয়া মানসিক রোগে আক্রান্ত কয়েক মাস ভালো থাকে ঔষধ নিয়মিত খেতে পারলে। ঔষধ নিয়মিত খেতে না পারলেই সে পাগল হয়ে যায় তখন শফিক মিয়াকে হাত পায়ে শিকল দিয়ে তালা মেরে রাখতে হয়। শফিক মিয়া বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্নায়ু ও মানুসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রেজাউল করিম চিকিৎসা দিন আছেন। শফিক মিয়া ও আমেনা বেগমের জীবনের দূর ভিক্ষের এখানে শেষ নয় গ্রামের লোকজন তাদের এ অবস্থা দেখে তাদের সংঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে প্রতিবন্ধী কন্যা অন্ধ হনুফা বেগম কে বিবাহ দেওয়ার সিন্ধ্যান্ত নেন। স্বাভাবিক একটি সন্তানের আশায় হনুফা বেগম কে বিয়ে দেওয়া হয়। হনুফা বেগমের বিয়ের পর তার স্বামী কয়েক মাস সংসার করার পর হনুফা বেগম কে ফেলে রেখে চলে যায়। শফিক মিয়া-আমেনা বেগম ও গ্রামের লোকজনে আশা চিলো যে হনুফা বেগমের ঘর যদি স্বাভাবিক একটি সন্তান হয় তাকে নিয়ে ভিক্ষা করে খেলেও দূঃখ থাকতো না তাদের। সে আশাও পূরণ হলো না শফিক মিয়ার পরিবারের। শফিক মিয়া ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম সাংবাদকর্মীদের কে বলেন আপনারা এসে তো দেখলেন আমাদের অবস্থা আপনাদের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের সকলের কাছে সাহায্যের আকুল আবেদন করছি যদি আমাদের ৪ সন্তানের মধ্যে কারো একজনে চোখের চিকিৎসা বা আমাদের চলার মত কিছু করেন আমরা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সবার জন্য দোয়া করে যাবো।
“আসুন আমরা এই অসহায় পরিবারের পাশে এগিয়ে আসি, সবাই মিলে এই প্রতিবন্ধী পরিবারটি কে সাহায্য করি”

loading...
error: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা আংশিক নকল করে বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
%d bloggers like this: