যৌতুক নির্যাতনের শিকার ওসমানীনগর যুব মহিলালীগ নেত্রী প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নভেম্বর ২৭, ২০১৭, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ১৩২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপের্টর: স্বামীর বাড়ির লোকজনের দ্বারা যৌতুক নির্যাতন ও পাল্টা মামলার শিকার হয়েছেন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা যুব মহিলালীগ সভানেত্রী কুলসুমা আক্তার রীনা চৌধুরী। নির্যাতন ও মামলার পর আসামীদের অব্যাহত হুমকীর কারণে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন। এ ব্যপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সোমবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে রীনা চৌধুরী জানান, যৌতুক নির্যাতন ও তার ভাইদের উপর হামলা-মামলার ঘটনায় পৃথক মামলা করার পর পুলিশ উল্টো তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা নিয়েছে। এমনকি পৃথক মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা দেওয়া হয়েছে একই কর্মকর্তাকে। যে পুলিশ নির্যাতনের পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে সেই পুলিশ আবার কিভাবে পাল্টা মামলা নেয়। টাকার বিনিময়ে এসব করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

ওসমানীনগর উপজেলার ভাগলপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের মেয়ে রীনা চৌধুরী জানান, তিনি বাংলাদেশ যুব মহিলালীগ সিলেট জেলা কমিটির নির্বাহী সদস্য ছাড়াও ওসমানীনগর উপজেলা শাখার সভানেত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল মৌলভীবাজার সদরের মীরপুর গ্রামের মতিন মিয়ার ছেলে লিটন মিয়ার সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বামী ও শ্বশুড়বাড়ির লোকজনের চাহিদা অনুযায়ী মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রি প্রদান করা হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে স্বামী লিটন মিয়াসহ শ্বশুড়বাড়ির লোকজন ২ লাখ টাকার চাপ দিতে থাকে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শুরু হয় জুলুম-নির্যাতন। এর নেপথ্যে ভ’মিকা পালন করছেন চাচা শাশুড় মুকিদ মিয়া। গত সেপ্টেম্বরে লিটন ও তার পরিবারের লোকজন মারপিট করে তাকে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়। মামলার ভয়ে শাশুড়ি রাজনা বেগম ‘যৌতুকের জন্য আর মারপিট করা হবে না’ মর্মে আশ্বস্ত করে তাকে পূনরায় শ্বশুড় বাড়িতে নিয়ে যান।

কুলসুমা আক্তার রীনা চৌধুরী জানান, সম্প্রতি তার শশুর বাড়ির লোকজন ২ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়ার জন্য আবার নির্যাতন শুরু করে। যৌতুক না দেওয়ায় গত ৬ নভেম্বর তাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। খবর পেয়ে তার বড় ভাই আরশ আলী মৌলভীবাজার থানা পুলিশকে জানান। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ওইদিন যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের ঘটনায় তিনি বাদি হয়ে স্বামী লিটন মিয়া, চাচা শ্বশুড় মুকিদ মিয়া, দেবর রেবুল মিয়া, চাচা শ্বশুড় মসুদ মিয়া, ননদ সুজিনা বেগমকে আসামী করে ওইদিন মৌলভীবাজার সদর থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ২০০৩ সালের সংশোধিত আইনের ১১(গ)/৩০ ধারায় মামলা করেন। মামলা নং ৯ (১১)১৭। মামলাটি এফআইআর করে পুলিশ তাৎক্ষণিক লিটন মিয়াকে গ্রেফতার করে। মামলার খবর পেয়ে স্বামীর বাড়ির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা ওইদিন মধ্যরাতে মৌলভীবাজার থেকে ওসমানীনগর ফেরার পথে ভাইসহ স্বজনদের উপর থানাবাজার বাস স্ট্যান্ডে হামলা ও তাদের মালামাল লুটপাট করে। এ ঘটনায় তার ভাই আরশ আলী বাদি হয়ে একই থানায় মুকিদ মিয়া, রেবুল মিয়া, ইমন, রফিক মিয়া, পাপলু মিয়া ও জুয়েল মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। যার নং ১৯ (১১) ১৭। রীনা বলেন, তাদের মামলা ছাড়াও মুকিদ মিয়া, রেবুল মিয়া ও লিটন মিয়া একই থানার ১৮২/১৭নং মামলার চার্জশীটভূক্ত আসামী। তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। অথচ আমার চাচি শাশুড়ি বাদি হয়ে আমাদের উপর ১১ নভেম্বর থানায় পাল্টা মামলা করেন। নং ১৩ (১১)১৭। মামলায় আমি, আমার ভাই আরশ আলী ও বোন তামান্নাকে আসামী করা হয়। অথচ যে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করলো সেই পুলিশ আবার আমার বিরুদ্ধে মামলাও নেয়। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে দুই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই তাপস।

একজন রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে যৌতুক লোভীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান রীনা। সংবাদ সম্মেলনে রীনার ভাই আরশ আলী ও ইউসুফ আলী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
loading...
error: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা আংশিক নকল করে বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
%d bloggers like this: