এমপি এবং স্থানীয় নেতাদের দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগ

জুন ২৮, ২০১২, ১:৩০ অপরাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ৪৭ বার পড়া হয়েছে

Loading...

ঢাকা-  সারাদেশের ৩০০ আসনের মধ্যে শতাধিক আসনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে নয়, নিজ দলের নেতারা পরষ্পরের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগে। ওই আসনগুলোতে এমপি এবং স্থানীয় নেতায় দ্বিমুখী, ত্রিমুখী এবং চতুর্মুখী সংকট চলছে। পাশাপাশি ওই নির্বাচিত এমপিদের অনেকেই এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ না রাখায় জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলটির পক্ষ থেকে সারা দেশে পরিচালিত এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে এ খবর বেরিয়ে এসেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুমুখী সংকট-সংঘাত সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে দুর্বল করছে। নেতায়- নেতায় দ্বন্দ্ব বন্ধ না হলে আগামী স্থানীয় এবং জাতীয় নির্বাচনে জয়ের মুখ না দেখতেও পারে দলটি। এ বিষয়ে স্থানীয় নেতারা তো বটেই ঢাকায় কেন্দ্রীয় নেতারাও বিব্রতবোধ করছেন।

এ বিষয়ে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেছেন, “সভানেত্রী শেখ হাসিনা মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। যেসব সংকট রয়েছে তা অচিরেই দূর হয়ে যাবে। একটা বড় দলে এ ধরণের সংকট থাকতেই পারে। তবে আগামী নির্বাচনে যাতে এর প্রভাব না পড়ে সেজন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

অনুসন্ধান প্রতিবেদন এবং স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরীর সঙ্গে চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি ও প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফসারূল আমিন, সাংসদ নুরুল ইসলাম বিএসসি, সাংসদ আবদুল লতিফ ও আজম নাছির উদ্দিনের বিরোধ দীর্ঘদিন যাবত চলছে।

কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তৃণমূলের নেতাদের মতবিনিময় এবং মহাসমাবেশ উপলক্ষে বিরোধ কিছুটা মিটলেও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা সম্ভব হয়নি এখনো।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি সারাহ বেগম কবরী ও সাবেক এমপি শামীম ওসমানের  দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পরও এ দ্বন্দ্ব মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরূল ইসলাম বাবুর সঙ্গে সাবেক এমপি ইমদাদুল হক ভুঁইয়ার বিরোধে স্থানীয় তৃণমূল নেতা কর্মীরা জড়িয়ে পড়েছেন।

কুমিল্লা-৬ আসনের প্রভাবশালী নেতা অ্যাডভোকেট আফজল খান এবং আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার একসঙ্গে সিটি কর্পোরেশ নির্বাচনে অংশ নিলেও ইলেকশনের পর আবারো বাহার-আফজল দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠেছে।

পটুয়াখালী-৩ আসনে তিনবার নির্বাচিত এমপি আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের বদলে মনোনয়ন পান ব্যাবসায়ী গোলাম মওলা রনি। সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আ খ ম জাহাঙ্গীর ছাড়াও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এমনকি উপজেলা চেয়ারম্যানদের সঙ্গে রনির সংকট এখন প্রকাশ্য।

বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের এমপি মনিরূল ইসলাম মণি ও বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুকের বিরোধ নিয়ে এখন দ্বিধাবিভক্ত স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

নেত্রকোণা-১ আসনের এমপি মোশতাক আহমদ রুহী সঙ্গে সাবেক এমপি জালালউদ্দীন তালুকদারের বিরোধ মারাত্মক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে দলকে।

যশোর-৩ আসনের সাবেক এমপি আলী রেজা রাজু, বর্তমান এমপি খালেদুর রহমান টিটো ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের মধ্যে ত্রিমুখী সংকট প্রায়ই সংঘর্ষে রূপ নেয়।

কক্সবাজার -৪ আসনের এমপি আবদুর রহমান বদির সঙ্গে উখিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি আদিল উদ্দিন চৌধুরীর বিরোধ এখন প্রকাশ্য।

বরগুনা-১ আসনের এমপি ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ সঙ্গে সাবেক এমপি দেলোয়ার হোসেনের এবং নেত্রকোণা-৩ আসনের এমপি মঞ্জুর কাদের কোরাইশীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতা অসীম কুমার উকিলের বিরোধ রয়েছে।

পিরোজপুর-২ আসনের এমপি মোহাম্মদ শাহ আলম স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না বলে সম্প্রতি স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছেন।

রংপুর-৪ আসনের এমপি টিপু  ‍মুন্সি রাস্তা-ঘাট উদ্বোধন ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় যান না জানিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু বলেন, এমপিকে এলাকার জনগণ আরো বেশি কছে পেতে চান।

রংপুর-৫ আসনের এমপি আশিকুর রহমান রাস্তা, ব্রিজ, কালভাট উদ্বোধন ছাড়া নির্বাচনী এলাকায় যান না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সিলেট-৫ আসেনের এমপি হাফিজ আহমদ মজুমদার গত বছর সব মিলিয়ে ৩/৪ বার  নির্বাচনী এলাকায় পা রেখেছেন বলে জানা গেছে। সিলেট পূবালী ব্যাংক রেস্টহাউসে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথাবার্তা বলে ঢাকায় ফিরে যান তিনি।

বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু বিগত তিন বছর এলাকার রাজনীতির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানা গেছে।

গাইবান্ধা-৫ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার বিরুদ্ধে গত তিন বছরে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ করেছেন গাইবান্ধা সাঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান পুটু ও গাইবান্ধা ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আকবর হোসেন সরকার।

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের এমপি ছোলায়মান হক জোয়ার্দারের সঙ্গে জেলার সাবেক সভাপতি ও বহিষ্কৃত নেতা হাসান কাদের ধনুর বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এছাড়াও এমপি ও এমপির ছোটভাই পৌরমেয়রের নামে প্রচুর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি আলী আজগর টগরের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের যোগাযোগ নেই বললেই চলে। এমপি এলাকায় আসেন না ঢাকাতে নিজের ব্যাবসা বাণিজ্য নিয়ে ব্যসত্ম বলে স্থানীয়রা জানালেন।

এছাড়ও রাজশাহী-২ আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৬ এর শাহরিয়ার আলম, যশোর-২ আসনের  মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ এবং যশোর-৬ আসনের শেখ আব্দুল ওহাব জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে।ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার এমপি খালেদ বাবুর সঙ্গে পৌরমেয়র আবদুল হাইয়ের বিরোধের কথা এলাকার সবাই জানে।

সূত্র :অল টাইম নিউজ:

loading...
error: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা আংশিক নকল করে বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি