নির্ঝরের মহাকাশ যাত্রা

জুন ১৫, ২০১৭, ৪:০৫ পূর্বাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ৮২ বার পড়া হয়েছে

Loading...

কিছু বুঝে ওঠার আগেই অনেক কিছু ঘটে গেলো। মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি থেকে যাত্রা শুরু করেছিলো নির্ঝর তার মহাকাশ যান নিয়ে। তারপর সে সানফ্লাওয়ার গ্যালাক্সির ভেতর চলে গেলো। সানফ্লাওয়ার গ্যালাক্সির মধ্যে দিয়ে চলছিলো তার মহাকাশ যান এস.আর.এন-২ কম্পিউটারের মাধ্যে কন্ট্রোল করছিলো সে তার মহাকাশ যানকে। কিন্তু হঠ্যাৎ করে গ্যালাক্সির ভেতর একটি গ্রহ থেকে প্রবল আকর্ষণ অনুভব করলো তার মহাকাশ যানটি। নির্ঝর একদম আশ্চর্য হয়ে গেলো। কারণ তার বুদ্ধিমান কন্ট্রোল কম্পিউটারটি আগে এই গ্রহের কোনো খবর দিতে পারেনি। তাই নির্ঝর কোনো সিগ্যনাল পায়নি। তার নিজের বানানো মহাকাশ যান এস.আর.এন-২ প্রবল বেগে ধেয়ে যায় গ্রহটির দিকে। অত্যাধিক গতি ও আকর্ষণের ফলে এস.আর.এন-২ তে আগুন লেগে যায়। ভাগ্য ভালো নির্ঝরের কিছু হয়নি। সে বুদ্ধি করে যানটি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয় এবং নিচে পড়ে যায়। যানটি ধ্বংশ হয়ে যায়। নির্ঝর ঐ নতুন গ্রহের মাটিতে আছড়ে পড়ে। পিঠে তার বেগ ছিলো যার মধ্যে একটি কন্ট্রোলার ও লেপটপ ছিলো। খুব জোরে আছড়ে পড়ায় নির্ঝর জ্ঞান হারিয়ে পরে ছিলো। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর নির্ঝর যা দেখলো তাতে সে ভাবলো “একি! এ কোন গ্রহে চলে এলাম আমি!” এই গ্রহতে গাছ আছে কিন্তু পাতার রং গুলাপি। এই গ্রহে মানুষের মত এক ধরণের জীব রয়েছে তবে এদেরকে দেখতে বিচিত্র রকমের। এদেরকেই হয়তো এলিয়েন বলা হয়। এরা ঠিক পৃথিবীর মানুষের মতো কথা বলে। এদের চোখ গুলো সবুজ রঙ্গের, কান খাড়া ও লম্বা, হাত ও পায়ের চেয়ে এদের আঙ্গুল লম্বা এবং এদের কেউই তিন ফুটের বেশি লম্বা হবে না। নির্ঝর ভাবলো এখন সে কি করবে? কি দরকার ছিলো একা একা অভিযানে বের হওয়ার? সবার কাছে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতেই নির্ঝর এস.আর.এন-২ বানিয়ে ছিলো এবং মহাকাশ যাত্রায় বেরিয়ে ছিলো। কিন্তু এখনতো মহাকাশ যানটাও নেই। কিভাবে সে ফিরে যাবে পৃথিবীতে মাটিতে শুয়ে শুয়ে ভাবছিলো। চার পাশে তিন ফুটওয়ালা এলিয়েন গুলো বলাবলি করছিলো “এ কে? এ নিশ্চয়ই সেই বুদ্ধিমান প্রাণীর গ্রহ থেকে এসেছে যার কথা আমরা আমাদের রাজার কাছে শুনেছিলাম।” বৃদ্ধ একজন বলে উঠলো “এ নিশ্চয়ই পৃথিবী নামক গ্রহের হোমো সেপিয়েন্স যারা পুরো পৃৃথিবীকে নিজের হাতে করে নিয়েছে।” নির্ঝর ভাবলো “ এরা তো সব জানে । এখন এরা আমার সাথে কি করবে?”

তিন ফুটওয়ালা প্রাণী গুলোর মধ্যে একজন বলে উঠলো “ আমাদের এই বুদ্ধিমান প্রাণীকে সাহায্য করা উচিত। আমরা একে আমাদের রাজার কাছে নিয়ে চলে যাই।”

নির্ঝর বুঝতে পারলো এরা তার কোনো ক্ষতি করবে না। বৃদ্ধ লোকটি বললো “বুদ্ধিমান প্রাণী, আমার নাম চাংচিং তোমার নাম কি?”

নির্ঝর উত্তর দিলো “ আমার নাম নির্ঝর। আমি পৃথিবী থেকে এসেছি”। তার পর আরও কিছু প্রাণী নিজেদের নাম বললো হেনেকোয়ে, চটাসপটাস, পিংতাং ইত্যাদি। নামগুলো শুনে নির্ঝরের খুব হাসি ফেলো। পিংতাং নির্ঝরকে প্রশ্ন করলো “ তুমি আমাদের এই গ্রহে কিভাবে চলে এলে?”

নির্ঝর সবাইকে পুরো কাহিনী খুলে বললো। তারা নির্ঝরকে জানালো যে তারা তাকে সাহায্য করবে। এরপর তারা নির্ঝরকে তাদের রাজার কাছে নিয়ে গেলো। রাজপ্রাসাদটি খুব বড় নয়। লতাপাতা দিয়ে সাজানো। লতাপাতার রং বৈচিত্রপূর্ণ এবং এগুলো নামও আলাদা।

রাজার নাম চিটাসিংপল। তিনি বললেন নির্ঝরের কোনো সমস্যা হলে তাঁকে জানাতে তিনি সব ধরণের সাহায্য করবেন পৃথিবীতে ফিরে যেতে। নির্ঝর গ্রহটির নাম দিলো ইউজার্ড। সে এখানকার ফল-মূল খেয়ে জীবন ধারণ করতে লাগলো। শিশু-বৃদ্ধ সবাই অর পরম আত্মীয় হয়ে উঠলো। চাংচিং বৃদ্ধ তার খুব খেয়াল রাখতো। লতাপাতার বিছানায় রাতে ঘুমাতো। এখানে সূর্যের আলো পৃথিবীর তুলনায় আশিভাগ পৌছায়।

এই গ্রহে পৃথিবীতে যে যে ধাতু আছে তার মুঠামুটি সব ধাতুই আছে। নির্ঝর ভাবলো এই গ্রহের সব কিছুর সাথে কিভাবে এই পৃথিবীর এতো মিল হতে পারে? তাহলে কি পৃথিবী ও এই উইজার্ডের সৃষ্টি একই উৎস থেকে? নির্ঝরের কাছে তার লেপটপ ছিলো কিন্তু এখানে তো নেটওয়ার্ক নেই। তাই আগের সেভ করা তথ্য সে পড়তে থাকে এবং নতুন যে তথ্য পাচ্ছে তাও সংরক্ষন করতে থাকে। ওর কাছে দু’টো ব্যাটারী ছিলো, যা দিয়ে সে তার লেপটপ ও কন্ট্রোলার চার্জ দিতো। ব্যাটারীতে চার্জ কমে গেলে তা সুর্যের আলোতে রেখে দিলে ব্যাটারী চার্জ হয়ে যেতো।

উইজার্ড গ্রহের সবাই নির্ঝরকে ভালোবাসে। নির্ঝরের প্রিয় পৃথিবী ও পরিবারের কথা খুব মনে পরছিলো। তাই সে আবার মহাকাশ যান তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করলো। যে ভাবে এস.আর.এন-২ বানিয়ে ছিলো তা লেপটপে সেভ করা ছিলো। সেভাবে জিনিসপত্র সংগ্রহ করে সে কাজ শুরু করলো। যে যে জিনিস পেলো না তাও সে অন্য ধাতু থেকে সংগ্রহ করলো। এখানেও একটি ল্যাবরেটরি রয়েছে। রাজার অনুমতি নিয়ে নির্ঝর সে ল্যাবে কাজ করছিলো। অবশেষে তৈরি করে ফেললো মহাকাশ যান তার নাম দিলো পিসিও-১৫। গ্রহের সবাই খুব খুশি সবার সাথে দিন খুব হাসি খুশিতে কাটছিলো। কিন্তু সবার কস্টও হচ্ছিলো একথা ভেবে যে নির্ঝর তো চলে যাবে। আর নির্ঝর শুধু ভাবছিলো একবার এই গ্রহ থেকে বেরিয়ে যদি নিজের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে পৌছাতে পারে তাহলে কন্ট্রোলার দিয়ে সিগ্যনাল পাঠালে পৃথিবী থেকে সাহায্য আসবে। নির্ঝর ইউজার্ড গ্রহের সবাইকে কথা দিলো কিছু দিন পর এই গ্রহে আবার সে আসবে। সবাই কে বিদায় জানিয়ে যাত্রা শুরু করলো। মনের মধ্যে খুশির বন্যা বইছিলো পৃথিবীতে ফিরে যাওয়ার এবং নতুন একটি গ্রহ আবিস্কার করার জন্য। অবশেষে সে চলে এলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে। সিগ্যনাল পাঠানো হলে পৃথিবী থেকে রকেট এসে নির্ঝর ও তার যানকে নিয়ে গেলো। নির্ঝর পৃথিবীতে পৌছা মাত্র তোলপাড় শুরু হয়ে গেলো। বিশ্ব মিডিয়া জানতে চাইলো নতুন সেই গ্রহের কথা। চতুরদিকে তার নাম ছড়িয়ে পড়লো। এর মধ্যে সে আবিস্কার করেছে গবেষনার মাধ্যমে আরেক বিষ্ময়কর তথ্য । মহা বিস্ফোরনের সময় পৃথিবী ও ইউজার্ড একই গ্রহ ছিলো, যা বিস্ফোরনের পরও এক সাথে ছিলো। কিন্তু চুম্বক ক্ষেত্রের আকর্ষণের ফলে পৃথিবী চলে আসে মিল্কিওয়ের দিকে এবং ইউজার্ড চলে যায় সানফ্লাওয়ারের দিকে। এই জন্য ইউজার্ড ও পৃথিবীর এতো মিল। তার এই তথ্য পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করলো। পদার্থবিজ্ঞানে এই বিষ্ময়কর অবদানের জন্য নির্ঝরকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হলো। তার জন্য সারা বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হলো। আজ সবার মুখে মুখে নির্ঝরের নাম।

পারিজাত চন্দ্রাননা অর্চি
একাদশ, বিজ্ঞান
টিএন খানম একাডেমি ডিগ্রি কলেজ
জুড়ী, মৌলভীবাজার।

loading...
error: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা আংশিক নকল করে বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি