সৌদি প্রিন্সদের ‘কয়েদখানা’ রিটজ কার্লটন উন্মুক্ত

ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০১৮, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ৩৮ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবে দুর্নীতির অভিযোগে গত নভেম্বরে গ্রেপ্তার হওয়া দুইশ’র বেশি প্রিন্স, মন্ত্রী ও ব্যবসায়ীর কয়েদখানা হিসেবে ব্যবহৃত পাঁচ তারকা রিটজ কার্লটন হোটেল সম্প্রতি খুলে দেওয়া হয়েছে।

দেশটির রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত পাঁচ তারা হোটেলটির কর্মীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কর্মীরা জানিয়েছেন, তাদের হোটেলটি অতিথিদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। এর আগে গত জানুয়ারি পর্যন্ত হোটেলটিতে কোনো অতিথি রাখা হয়নি।

সেদি আরবের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, রিটজ-কার্লটন হোটেলে এখনো ৫৬ জন বন্দি রয়েছেন। যদিও দেশটির কোনো কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিটজ-কার্লটন হোটেলের বাকি বন্দিদের কারাগারে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

জানুয়ারির শেষদিকে প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রিন্সসহ প্রভাবশালী গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে অর্থনৈতিক দণ্ডের রফা করেছে সরকার। এ প্রক্রিয়ায় সরকার ইতিমধ্যেই দশ হাজার কোটি ডলার বা ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ উদ্ধার করেছে। যদিও সরকারের হিসাবে প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজদের গোপন বা অফ শোর হিসাবের অর্থের পরিমাণ আনুমানিক প্রায় ৮০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গত নভেম্বরে দেশটিতে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চালু হওয়ার পর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া প্রভাবশালী বন্দিদের রাখার জন্য রিটজ-কার্লটনসহ বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল হোটেল ব্যবহার করা হয়।

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান দেশটির দুর্নীতি দমন কমিটির প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওই দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু হয়। এরপর একে একে রাজপরিবারের সদস্য, মন্ত্রী, শীর্ষ ব্যবসায়ীরা গ্রেপ্তার হন। তাদেরকে বিলাসবহুল হোটেলে আটকে রাখা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনার পাশাপাশি, তাদের ব্যক্তিগত বিমানগুলো আটকে রাখা হয় এবং তাদের সম্পত্তি জব্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালাল ও সৌদি মিডিয়া মোগল ওয়ালিদ আল-ইব্রাহিম উল্লেখযোগ্য।

বলা হয়ে থাকে, দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি যুবরাজের এ উদ্যোগের সঙ্গে ক্ষমতার যোগসূত্র আছে। ৩২ বছর বয়সী যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান বা এমবিএস, নামেও যিনি পরিচিত, এরই মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোয় ক্ষমতা করায়ত্ত করেছেন। তিনি এখন বিশ্বের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

বলা হয়, যুবরাজ দুর্নীতি দমন অভিযানের মাধ্যমে তিনি কার্যত নিজের ক্ষমতার জানান দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
loading...
error: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা আংশিক নকল করে বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
%d bloggers like this: