শিশুর আর্তনাদ মা তুমি ফিরে এসো!

ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০১৮, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ৯৭ বার পড়া হয়েছে

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কালেঙ্গা গ্রামে পাষান মা এক বছরের দুধের শিশুকে ফেলে প্রেমিকের সাথে পালিয়েছে। শিশুটিকে নিয়ে অসহায় বাবা বিপাকে আছেন। শিশুটিকে লালন পালন করতে তার ধারা কষ্ট সাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে। মায়ের অভাবে শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে মরনাপন্ন অবস্থা হয়েছে।

বেশ কয়েকদিন ফেরিয়ে গেলেও নিষ্ঠুর মা নিজ সন্তানের খোঁজ নেয়নি সে কেমন আছে। দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারন করলেও নিজের নারীর টান হার মেনেছে সালমার প্রেমের কাছে। কালেঙ্গা গ্রামের গফুর মিয়ার মেয়ে সালমা বেগম। আট বছর পূর্বে মিজান মিয়ার সাথে বিয়ে হয় সালমা বেগমের। ভালোই চলছিল তাদের দাম্পত্ত জীবন। তাদের সংসার  জীবনের আসে ফুট ফুটে দুটি সন্তান, নিশিতা আক্তার ও নজরুল ইসলাম। অভিশাপ হিসাবে আর্বিভাব হয় তালতো ভাই সালাম মিয়া। স্বামীর সরলতার সুযোগ পেয়ে সালমা বেগমের সাথে গবির প্রেম সর্ম্পক গড়ে উঠে সালামের। প্রেম যত গবীরে যাচ্ছিল মিজান মিয়ার সোনার সংসারে তত অশান্তির আগুন বেড়ে চলছিল দিন দিন।

উল্লেখ্য ১০ ফেব্রুয়ারী‘ মিজান মিয়ার স্ত্রী সালমা বেগম (২৫) প্রেমেরটানে আট বছরের ঘর সংসার ও এক বছরের দুধের শিশুকে রেখে তালতো ভাই সালাম মিয়ার সাথে পালিয়ে যায়।

স্বামীর লিখিত অভিযোগে জানাযায়, শ^শুর বাড়িতে তালতো ভাই সালামের সাথে সালমা বেগমের পরিচয় ঘটে। এর পর থেকে সালমা বেগমের সাথে প্রতিনিয়ত ফোনে কথা চলে সালামে। এক সময়ে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। স্বামীর অগোচরে প্রায় সময় সালমার সাথে মন দেয়া নেয়া করতো সালাম। স্বামীর কাছে বিষয়টা ধরা পড়লে এ বিষয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া ঝাটি হতো।

৯ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় স্বামী স্ত্রীর আবার ঝগড়া হয়। পরে তাদের আত্মীয় আলী হোসেন, মন্টু মিয়া, তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেন। এর পরের দিন ১০ ফেব্রুয়ারী সালমা বেগম তার স্বামীর অনুপস্থিতে তার ঘরের রক্ষীত নগদ পচাত্তর হাজার টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণ নিয়ে সালাম মিয়ার সাথে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় দুইটি শিশু বা”ছাকে তার বাবার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়। সালমাকে পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সার্ভিক সহযোগিতা করেছে তার শালিকা নাজমা বেগম। মিজান মিয়ার অভিযোগ তার শ^শুর শ^াশুরির সম্মতিক্রমে প্রেমিক সালাম মিয়ার সাথে নগদ টাকা ও স্বর্ণ সহ তার স্ত্রী পালিয়ে যায়। তার এক বছরের দুধের শিশুটি মায়ের অভাবে মরনাপন্ন হয়ে যাচ্ছ দিন দিন। সালাম মিয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্ররোচনা দিয়ে তার স্ত্রীকে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন মিজান মিয়া। এমন কি শ^শুর শ^াশুরি ও শালিকা নাজমা বেগমের পরিকল্পিত ভাবে এ কাজটি করেছেন বলে মিজান মিয়া বলেন। এ ব্যাপারে মিজান মিয়া কমলগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন, ডায়েরি নং-৫৯৬।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার তদন্তকারি কর্মকর্তা মোঃ সুরুজ আলীর সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি বলেন, পূর্ব থেকে সালমার সাথে সালাম মিয়ার পরকিয়ার প্রেম ছিল। সেই সুবাধে সালাম তাকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। তিনি সালমার পিতা-মাতাকে তিন দিনের সময় দিয়েছিলেন। এর মধ্যে সালমাকে হাজির করতে পারেনি তার  বাবা গফুর মিয়া। আমরা সারা বাংলাদেশে বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছি যেখানে সালমার সন্ধান পাওয়া যাবে সেখানেই তাকে গ্রেফতার করা হবে। উক্ত বিষয়ে সালমা বেগমের বাবা গফুর মিয়ার সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে যে, আপনার মেয়ে সালমা বেগম তার দুটি বাচ্ছা রেখে পালিয়ে গেছে এ বিষয়ে কি আপনি থানায় লিখিত কিছু দিয়েছেন বা মৌখিক কিছু বলেছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি কিছু বলতে চাই না। এই নেন আমার এক ভাইয়ের সাথে কথা বলুন, তিনি বলেন আমরা কিছু জানি না আর কিছু বলতেও চাই না, আর আপনি কিছু জানতে চাইলে আমাদের বাড়িতে এসে জেনে যান। কমলগঞ্জ থানা পুলিশ আমাদের বিপক্ষে যাবে না। আমরা পুলিশকে খবর করলে ওরা তাৎক্ষনিক আসবে সে ব্যবস্থা আমাদের করা আছে। তাদেরকে বলবো সাংবাদিক বাড়িতে এসেছে জানার জন্য আপনারা আমার বাড়িতে আসুন। এদিকে মিজান মিয়া ও তার সন্তানদেরকে প্রানে মারার চক্রান্ত করছে তার শ^শুর শ^াশুরি ও শালী নাজমা বেগম। এ নিয়ে থানায় জিডি করবেন বলেও জানান মিজান মিয়া। সালমা বেগমের দুধের শিশু নজরুল ইসলাম মায়ের ছবি হাতে নিয়ে খেলছে এবং মেয়ে নিশিতা বেগম বলছে আম্মা তুমি আও আমি তোমারে দেখতাম। নজরুলে তোমারে না পাইয়া কান্দের। আমি তোমার মেয়ে নিশিতা কইরাম তুমি না আইলে আমি স্কুলে যাইতাম নায়। আমি কারে আম্মা কইয়া ডাকমু । এমনি আবেগ প্রবন ভাষা ব্যবহার করে সালমা বেগমের মেয়ে নিশিতা আক্তার। কারো পক্ষে এমন প্রশ্নের উত্তর জানা নেই। শিশু তার মাকে চায় কে দিবে এই শিশুর মাকে ফিরিয়ে দিতে। এলাকাবাসীর অনেক লোক সালমাকে ডায়নী মা হিসাবে ডাকছে। এত সুন্দর দুটি সন্তান রেখে সে কি করে পালিয়ে গেলো তাদের জানা নেই।  এদিকে রাতের আধারে দুটি সন্তান নিয়ে বিপদে আছেন মিজান মিয়া। বহু হুমকি ধামকি আসছে প্রতিনিয়ত কখন কি হয় রাতের আধারে। সালাম তার বাহিনী দিয়ে যদি মিজানের সহ-পরিবারে হত্যা করে ফেলে। এমনি ভয়ের কথা জানালেন মিজান মিয়া।

loading...
error: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা আংশিক নকল করে বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
%d bloggers like this: