বিএনপি সভাপতি নাসের রহমানের ঐক্যের ডাক : বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতাকর্মীরা চাঙ্গা মনোভাব

মার্চ ৬, ২০১৮, ১০:২৮ অপরাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ১০২ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাছের রহমানের নেতৃত্বে ডাকা ঐক্যে সাড়া দিয়ে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও জাসাসের শীর্ষস্থানীয় নেতারা দীর্ঘদিনের মতবিরোধের অবসান ঘটেছে।

৫ মার্চ সোমবার রাতে এই বৈঠকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দেশ বিদেশে ও সারা জেলার বিএনপির নেতাকর্মীরা এই ঐক্যবদ্ধ প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে তাদের মনে একধরনের উৎফ্লুতাবিরাজ করছে। নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করছেন সকল নেতাকর্মীরা সময়েরপ্রয়োজনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের দুর্দিনে এক মঞ্চে উঠে চলমান আন্দোলন ও মুক্তির সংগ্রা, চালিয়ে যাবেন।

সাবেক সংসদ সদস্য এম নাছের রহমান প্রয়াত বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের জ্যেষ্ঠপুত্র।

এদিকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দলের র্শীষ নেতৃত্বের ঐক্য প্রক্রিয়াকে সময়পোযোগী ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেছেন এর মাধ্যমে জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মনোবল আরো চাঙ্গা হয়ে উঠবে। গতি পাবে বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলন সংগ্রাম। ফিরে পাবে দেশের মানুষ তার ভোটের অধিকার ও গনতন্ত্র।

দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, জেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি এম নাছের রহমান দেশের এই চলমান কঠিন সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি ও এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবী আদায় করতে মৌলভীবাজার জেলায় বিএনপি পরিবারের নেতৃবৃন্দ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

আর সেই আহবানের ডাকে সাড়া দিয়ে মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মৌলভীবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র জেলা বিএনপির বর্তমান সহ-সভাপতি ফয়জুল করিম ময়ুন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ফয়সল আহমেদ,ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিলেট বিভাগীয়  সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল,জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ  সম্পাদক নুরুল আলম নোমান, জেলা জাসাসের সম্পাদক সরওয়ার মজুমদার ইমন,জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জিএম মুক্তাদির রাজু এক কাতারে মিলে মিশে দলের ডাকা আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হন।

গত সোমবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার শহরের জেলা বিএনপি’র এক শীর্ষ নেতার বাসায় অনুষ্ঠিত ওই বিশেষ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য এম নাছের রহমান,জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আলহাজ্ঝ এম এ মুকিত,সহ- সভাপতি সাবেক জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আশিক মোশারফ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো.হেলু মিয়া,সাংগঠনিক সম্পাদক বকসী মিছবাউর রহমান।

দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ ৮ বছরের গ্রুপিং এর অবসান ঘটিয়ে ২০১৭ সালের ২৫ মে বিএনপির মহাসচিব স্বাক্ষরিত প্যাডে ৪৮ সদস্য বিশিষ্ট মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির নতুন (আংশিক) কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিতে বিবাদমান দু’গ্রুপ থেকেই সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক মনোনিত হন। জেলার তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল দীর্ঘ ৮ বছরের চলমান এ দ্বন্ধের অবসান হবে কিন্তু কমিটি ঘোষণার পর নতুন করে পুরনো দ্বন্ধ আবারো প্রকাশ্যে রুপ নেয়। এখন আবারো পৃথক ভাবে পালিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী। এদিকে জেলা কমিটিতে সঠিক মূল্যায়ন না হওয়ায় মান অভিমানে দলীয় সকল কার্যক্রম থেকে নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছিলেন সাবেক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল করিম ময়ূন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর থেকে তিনি নিজের একটি বলয় সৃষ্টি করে নেতাকর্মী নিয়ে আবার রাজপথে নামেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি এম নাছের রহমানের সঙ্গে বৈঠকের কথা স্বীকার করে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল করিম ময়ুন বলেন-‘সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য আমরা একটা প্রক্রিয়া চালিয়েছি। এর বাইরে আরও অনেকেই আছেন। সকলকে একই প্লাটফর্মে আনার। আর এটি মানুষজন ও দলের নেতার্মীরাও চান’।

মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান ফয়সল আহমেদ তাঁর প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্ত করে বলেন-‘দলীয় চেয়ারপার্সন আজকে মিথ্যা সাজানো মামলায় জেলে এবং বিপদে। এর চাইতে দলের দু:সময় আর হতে পারে না। বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে অবিলম্বে মুক্ত করতে জেলা বিএনপি’র সভাপতি এম নাছের রহমান দলে আজ ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। উনার ডাকে আমরা সাড়া দিয়েছি। দলের দু:সময়ে আজ এক সঙ্গে বসেছি। আশা করছি দল এখন অতীতের চাইতে আরও শক্তিশালী হবে। আমি মনেকরি আমরা যারা শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। তারা দলের চেয়ারপার্সনের এই দু:সময়ে কারো ব্যক্তিগত মতবিরোধ রাখা ঠিক নয়। আজকে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রামে না নামি তাহলে বিচ্ছিন্ন কোনও আন্দোলন রাজপথে জমবেও না নেতাকর্মীরা আরও ক্ষতিগ্রস্থ হবে ’।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সিলেট বিভাগীয়  সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল বলেন-‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা সাজানো মামলায় আজ কারাগারে। তাঁর মুক্তির আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী আজ কারাগারে। তাই এই ক্রান্তি লগ্নে বেগম জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে জেলা বিএনপি সভাপতি এম নাছের রহমান দলের এই দু:সময়ে সকলের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। সেটাকে আমরা জেলা ছাত্রদল স্বাগত জানিয়েছি। সকল ভেদাভেদ ভূলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমি মনেকরি আমাদের এ ঐক্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মনোবল আরো অনেকটা চাঙ্গা করবে। চলমান দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে  সকলের অংশগ্রহণ আরো বাড়বে। চলমান গনতন্ত্রের আন্দোলনে উদ্বেলিত হতে আরও অনুপ্রেরণা এবং সাহস যোগাবে’। বৈঠকে উপস্থিত জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নোমান বলেন-‘আমরা সকলে মিলেমিশে চেষ্ঠা করছি দ্বিধাবিভক্ত দলের সকলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে’। আশা করছি তা চলমান দলীয় কর্মসূচীগুলোতে দেখতে পাবেন’।

জেলা জাসাসের সম্পাদক সরওয়ার মজুমদার ইমন বলেন,‘দলের এই বিপদমুহূর্তে ঐক্যের বিকল্প নেই। তাই আমরা দলের প্রয়োজনেই সাবেক এমপি নাছের রহমানের ডাকে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।”

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জিএম মুক্তাদির রাজু বলেন-‘ বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখে আমরা দলেকোনও ভোদাভেদ রাখতে চাই না। আমরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সকলে মিলে চলমান আন্দোলনকে আরো এগিয়ে নিতে চাই । তাই আমরা এম নাছের রহমানের নেতৃত্বেই  চলমান গনতন্ত্রের মুক্তি সংগ্রাম  চালিয়ে যাওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।’

জেলা বিএনপির বর্তমান সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল মুকিত বলেন-‘দলের চেয়ারপার্সনের এই বিপদের মূহুর্তে জেলা বিএনপির সভাপতি দলে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। প্রথমধাপে আমরা সফল হয়েছি। আশা করছি দলের এমন দুর্দিনে শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের নেতাকর্মীগণ মিলেমিশে সকলেই অতীতের ভেদাভেদ ভুলে যাবেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও দলে শীর্ষ নেতাদের ঐক্যবদ্ধ দেখতে চান। তিনি দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরকে ঐক্যর পতাকাতলে যোগ দিয়ে বেগম জিয়ার মুক্তির চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন’।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা জেলা বিএনপি’র ঐক্য প্রক্রিয়ার অন্যতম নেতা জেলা বিএনপির বর্তমান সহ-সভাপতি আশিক মোশারফ বলেন-‘এই তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকটি আমাদের জেলা পর্যায়ের র্শীষ নেতাদের মতবিরোধ নিরসনের প্রথম ধাপ ছিল। দলের মধ্যে যারা আরও বাইরে আছেন তাদেরকেও নিয়ে আসার জন্য চেষ্ঠা চালানো হচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি মৌলভীবাজার জেলার ঐক্যবদ্ধ বিএনপির পরিবার চলমান দলীয় আন্দোলন সংগ্রাম রাজপথে ও মাঠে ময়দানের কর্মসূচীতেই দৃশ্যমান হবে’। একই মন্তব্য করেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বকসী মিছবাউর রহমান।

loading...
error: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা আংশিক নকল করে বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
%d bloggers like this: