রাজনগরের ডাহুক পাখি শিকারি উস্তার মিয়ার ভিন্ন জীবন

মার্চ ২৫, ২০১৮, ৭:০৭ অপরাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ১৩১ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: চল্লিশ উর্ধ্ব এক ব্যতিক্রমী পেশার মানুষ উস্তার মিয়া।  মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার সুনামপুর গ্রামের স্থানীয়দের চেনা-জানা ওয়াপধা সড়কের পাশে তার বাড়ি। তবে গ্রামের সবার চেয়ে একটু ভিন্ন জীবন তার ।  ওই গ্রামে মধ্যবৃত্ত ও খেটে খাওয়া যারা আছেন সবাই কৃষি ক্ষেত,মাছ চাষসহ ও অন্যান্য পেশা বেচেঁ নিয়েছেন। তিনি নিয়েছেন তার উল্টোটা। পেটের তাগিদে জীবিকার সন্ধ্যানে গ্রামের লোকজন চলেন নিজ কর্মস্থলের চাকুরি,ব্যবসা-বানিজ্য কিংবা মৎস খামারে।  তিনি বউ বাচ্চাদের খবার যোগাতে ছুটে যান বনে বনে।  তিনি রোজ ঝুপঝাড়,বন-জঙ্গল ও প্ররিত্যক্ত পুকুরে ডাহুক পাখি শিকার করতে পছন্দ করেন। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, ৫০ বছর আগে তার দাদা মৃত ইদ্রিছ উল্যাহ ডাহুক শিকার করতেন।  বংশ পরম্ভরায় তার বাবা মৃত তকবির আলী ও এ পেশা ধরে রাখেন। এখন তিনিও হাল ছাড়লেনা বাপ-দাদার এ আদি পেশার। ডাহুক শিকার নিয়ে তার সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, ফাঁদ বান্দিয়া (ফেলে) পাখি ধরাত (শিকার) করতে ঝুপ ঝাড়ে যাই।  খাঁচা নিয়ে তিনি ডাহুক ঝুপে ছেড়ে দিলে ডাহুক তারমত করে ডাকতে থাকা।  এসময় বনের অন্য ডাহুকরা তার স্ব জাতি ভেবে ছুটে আসে ফাঁদে।  তখন ফাদের জালে আটকা পড়ে বন্য ডাহুক।  বাংলাদেশের চেনা-জানা শত প্রজাতির পাকির মধ্যে সিংহভাগ পাখি বৃক্ষের ঢালপালায় উড়ে বেড়ায়। কিন্তু ঝুপঝাড় ও জলে নিরিবিলি যাদের বিচরণ সেটি হলো দেশের লাজুক ওই পাখি ডাহুক।  তিনি বলেন, এক যুগ ধরে তিনি গ্রামসহ রাজনগর উপজেলা সদরের গ্রামাঞ্চল, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় শিকার করতে যান। প্রতিদিন ৩/৪টা ডাহুক তার ভাগ্যে জোটে। প্রতিটি ডাহুক দেড়শ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। কোনদিন শিকারে সফল না হয়ে খালি হাতে নিজের বাড়ি ফিরতে হয় তাকে। অল্প আয়ের এই পেশায় কিভাবে দিনপাত কাটে জানতে চাইলে পাখি শিকারী উস্তার জানান, বাপ-দাদার পেশা ছাড়তাম (ছাড়তে) পারিনা। তার কাছে এখন এ পেশা নেশায় পরিনত হয়েছে।

ডাহুক খুব ভীরু স্বভাবের একজাত পাখি। জলাভূমির আশেপাশের ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকা এই পাখিটি মাঝারি সাইজের। লেজ ছোট। পা লম্বা। পায়ের আঙুলও বেশ লম্বা। পিঠের রঙ ধূসর থেকে খয়েরী-কালো, মাথা ও বুক সাদা। লেজের নীচের অংশে লালচে আভা। ঠোট হলুদ রঙের, ঠোটের উপরে লাল রঙের একটি ছোট্ট দাগ আছে। জল ও স্থল এদের আশ্রয়। পুকুর, খাল, জলাভূমি, বিল, পরিত্যক্ত পুকুরের লুকানো জায়গায় এরা স্ত্রী ডাহুকিদের নিয়ে বিচরণ করতে নিজেদেও নিরাপদ মনে করে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
loading...
error: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা আংশিক নকল করে বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি
%d bloggers like this: