বড়লেখায় প্রেমঘটিত কারণে খুন হল ফরিদা : আদালতে প্রেমিকের স্বীকারোক্তি

জুলাই ১৫, ২০১৮, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ১৭৯ বার পড়া হয়েছে

Loading...

আব্দুর রব: বড়লেখায় প্রেমঘটিত কারণে প্রেমিক জুমেল আহমদ পুর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের নিয়ে নির্মমভাবে খুন করেছে এক সন্তানের জননী ফরিদা বেগমকে। এ হত্যার ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত প্রেমিক জুমেলসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।  ১৩ জুন উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার জমি থেকে ফরিদার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ফরিদার মা অজ্ঞাতনামা আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত করে উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের ইটাউরি কান্দিগ্রামের সাইন উদ্দিনের ছেলে জুমেল আহমদ ওরফে জুবেলকে (২৫) গ্রেপ্তার করে। পরে রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার সাথে জড়িত আরো দুই সহযোগির নাম প্রকাশ করে। তার দেয়া তথ্যে পুলিশ নিজবাহাদুরপুর ইউপির ইটাউরি কান্দিগ্রামের মখলিছ উদ্দিনের ছেলে প্রাইমারী স্কুলের দফতরি জাকির আহমদকে (২৫) গ্রেপ্তার করে।

হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার জুমেল আহমদ ওরফে জুবেল বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হাসান জামানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওয়াহেদ গাজী।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৩ জুন উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউপির ইসলামপুর এলাকার জমি থেকে তালাকপ্রাপ্ত ফরিদার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ফরিদার মা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ফরিদা ওই গ্রামের খলকু মিয়ার মেয়ে। প্রায় ৬ বছর আগে পাশ্ববর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার পাথারিপাড়া গ্রামের গৌছ উদ্দিনের সাথে ফরিদার বিয়ে হয়। ৩ বছর আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়। তাদের পাঁচ বছরের একটি কন্যা সন্তান তার বাবার (গৌছ উদ্দিন) কাছে বসবাস করে। ফরিদা বেগম থাকতেন শাহবাজপুরে বাবার বাড়িতে।

বাবার বাড়ি থাকা কালিন উত্তর শাহবাজপুর ইউপির ইটাউরি কান্দিগ্রামের সাইন উদ্দিনের ছেলে জুমেল আহমদ ওরফে জুবেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর মধ্যে জুমেল অন্যত্র বিয়ে করায় তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। ঘটনার রাতে মঙ্গলবার ১২ জুন জুমেল কয়েকজন সহযোগি নিয়ে ফরিদার বাড়িতে যায়। মোবাইল ফোনে কল দিয়ে জুমেল ঘর থেকে বের করে ফরিদাকে। এরপর সহযোগিদের নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ পাশের ক্ষেতের কাদা-পানিতে উপুড় অবস্থায় ফেলে যায়। এরপর থেকে সে পলাতক ছিল।

পরদিন বুধবার ১৩ জুন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে তাদের বাড়ির পূর্ব-উত্তর পাশের ক্ষেতের জমির কাদা-পানিতে উপুড় অবস্থায় ফরিদার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন তার মা। খবর পেয়ে ওই দিন বিকেলে লাশ উদ্ধার করে উত্তর শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ।

এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশি তদন্তে ইটাউরি কান্দিগ্রামের সাইন উদ্দিনের ছেলে জুমেল আহমদ ওরফে জুবেলের সম্পৃক্তার প্রমাণ মিলে। এরপর উত্তর শাহবাজপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন-চার্জ মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে গত ২ জুলাই চান্দগ্রাম এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ওয়াহেদ গাজী। হত্যার রহস্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ দিনের রিমান্ড চান তদন্ত কর্মকর্তা।

সোমবার ৯ জুলাই আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদে সে পুলিশের কাছে হত্যার বিষয়ে প্রাথমিক স্বীকারোক্তি ও সহযোগিদের নাম প্রকাশ করে। তার দেয়া তথ্যে পুলিশ নিজবাহাদুরপুর ইউপির ইটাউরি কান্দিগ্রামের মখলিছ উদ্দিনের ছেলে প্রাইমারী স্কুলের দফতরি জাকির আহমদকে (২৫) গ্রেপ্তার করে।

রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে বড়লেখা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হাসান জামানের আদালতে জুমেল আহমদ ওরফে জুবেলকে হাজির করলে সে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওয়াহেদ গাজী বলেন, ‘তিনজনে মিলে হত্যা করে ফরিদাকে। প্রেমঘটিত বিষয়ে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটনানো হয়। জুমেল আদালতে সে সহ তিনজনের নাম বলেছে। এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

loading...