নৌকায় চড়তেই হবে

জুলাই ২২, ২০১৮, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ৮৭ বার পড়া হয়েছে

Loading...

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নৌকা ঠেকাতে হবে কেন? শ্রাবণ শেষে বন্যা হবে আপনাদের নৌকায় চড়তেই হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছিল বলেই স্বাধীনতা পেয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়েছিল বলেই আজ দেশে এতো উন্নয়ন। শেখ হাসিনা বলেন, মৃত্যুকে ভয় পাই না। জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। যতক্ষণ বেঁচে আছি ততক্ষণ মানুষের জন্য কাজ করে যাব। জনগণ কতটুকু পেল সেটাই আমার কাছে বিবেচ্য বিষয়। এর বাইরে আমার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই।
গতকাল বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় কবিগুরু রবী›ন্দ্র্রনাথ ঠাকুরের গানের কলি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ মণিহার আমার নাজি সাজে।’ আরও বলেন, তিনি এর যোগ্য নন। এই সংবর্ধনার কামনাও নেই। এসময় শুরুতেই সংবর্ধনা আমার প্রয়োজন নেই। আমি জনগণের সেবক। আমি এই সংবর্ধনা বাংলার মানুষকে উৎসর্গ করলাম।
ভারতের আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি অর্জন, মহাকাশে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পাঠানো, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করা, চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া এবং দেশের উন্নয়ন ও অর্জনে অনন্য সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটি মহল নৌকা ঠেকাতে নেমেছে, নৌকা কেন ঠেকাতে হবে? নৌকার অপরাধ কি? সমনে শ্রাবণ মাস। বর্ষার সময়, বন্যার সময়। নৌকাতো লাগবে। যেসব রাজনীতিকরা নৌকা ঠেকাতে নেমেছেন তাদের বন্যার সময় রিলিফ বিতরণ করতে ও চলাচল করতেওতো নৌকাই লাগবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ৯ মাসের মধ্যে জাতিকে যে সংবিধান দিয়েছিনে সেই সংবিধানকে লঙ্ঘন করে মার্শাল ল জারি করে ক্ষমতা নেওয়া হয় ক্যান্টনমেন্টে। তারা ক্ষমতা উপভোগ করেছে। প্রতারণা করেছে জাতির সাথে। এসব অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী উচ্ছিষ্টভোগীরা এলিট শ্রেণি হয়েছে। বিত্তশালী হয়েছে। এ দেশে বারবার ক্যু হয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯টা ক্যু হয়েছে। আর স্বাধীন বাঙ্গালী জনগণের ক্ষমতাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ক্যান্টনমেন্টে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকায় ভোট দিয়েছে বলে জনগণ ভাষার অধিকার পেয়েছে। দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। দেশের উন্নয়ন হয়েছে। স্বল্পন্নোত থেকে উন্নয়নশীল দেশে নাম লিখিয়েছে। পারমণবিক ও স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছে। আমার প্রশ্ন নৌকা ঠেকিয়ে কি রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় আনবেন? যারা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন তাদের মুখে একথা মানায় না।
শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরাই নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালোট বাক্স এনেছি। স্থানীয় ও জাতীয়সহ এ পর্যন্ত যতোগুলো নির্বাচন হয়েছে সবগুলোতে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে। গণতন্ত্র যদি না থাকে তবে জনগণ ভোট দিয়েছে কিভাবে?
মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু গ্যাসও দিতে পারেনি, দেশের উন্নয়নও করতে পারেনি। আমি আগেই বলেছি, মুচলেকা দিয়ে বাংলাদেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় যেতে চাই না।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছি। দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছি। কিন্তু ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। কারণ নির্বাচন ঠেকাতে পারলে আবার অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীরা ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু দেশের জনগণের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা বিএনপির এসব জ্বালাও পোড়াও ঠেকিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে। দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্তিত করেছে। আবার বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এ দেশেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু বিএনপি আবার মাঝ পথে সেটিকে বন্ধ করে দেয়। কারণ তারা দ্বিতীয় দফায় আবার ক্ষমতায় আসে। যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই আমাদের নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বন্ধ করে দেয়।
দেশের মানুষের জন্য জীবনকে উৎসর্গ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কেবল ঘুমের সময়টুকু বাদে দিনের বাকিটা সময় তিনি কেবলই দেশের উন্নয়ন ও দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, একটা মানুষের তো ২৪ ঘণ্টা সময়। এই ২৪ ঘণ্টা থেকে আমি মাত্র ৫ ঘণ্টা নেই। আমার ঘুমানোর সময়। এছাড়া প্রতিটি মুহূর্ত আমি কাজ করি দেশের মানুষের জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য।
অনুষ্ঠানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে ২০২০ সালে তার জন্মশতবার্ষিকী পালনসহ ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে তাদের বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছে। অথচ এই খুনিরা দম্ভভরে বলেছিল তারা শেখ মুজিবকে হত্যা করেছে। তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের আগে বাঙালি ছিল বীরের জাতি। আর ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেই বাঙালি হলো খুনি জাতি। কলকাতায় আমরা যে বাসায় ছিলাম সেখানে এক কাপড় বিক্রেতা আসতেন তিনি আমাদের বললেন আপনারা কীসের জাতি? যিনি আপনাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন তাকে হত্যা করল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে আমরা আমাদের সম্মান হারিয়েছি।
বেলা দুইটা থেকেই সাংস্কৃতিক নানা আয়োজনের মধ্যে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। আর বঙ্গবন্ধু কন্যা আসার পর তাকে নিয়ে গান পরিবেশন করেন প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী ও সংসদ সদস্য মমতাজ।
বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংবর্ধনা মঞ্চে আসেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ‘আমার প্রিয় বাংলাদেশ’ শিরোনামে গীতিনাট্য পরিবেশন করা হয়। হয় আবৃত্তি আর নৃত্য পরিবেশনা।
জাতীয় সংসদের উপনেতা এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে সম্মাননা পত্র পাঠ করেন। তিনি পরে সেই সম্মাননাপত্র প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন।
এর আগে বিকেল সাড়ে তিনটায় প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনার অনুষ্ঠানের ভেন্যুতে পৌঁছলে দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের জনতা হাত নেড়ে, পতাকা উচিয়ে মুহুর্মুহু শ্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।
সব স্রোত মিশেছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে
শনিবার সকাল থেকেই রাজধানী এবং আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী আসতে থাকেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। দুপুরের আগেই লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। এই আয়োজনের কারণে গতকাল দুপুর থেকেই রাজধানীর একাংশে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রাজধানীসহ আশপাশের জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের ঢল পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। আর আর এই জন স্রোত সব গিয়ে মিলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জন স্রোতও বাড়তে থাকে।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বিশাল শো-ডাউন
এদিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান মনোনয়নপ্রত্যাশীদের শো-ডাউনে পরিণত হয়েছে। তাদের অনুসারীদের মিছিল-স্লোগান ছিলো চোখে পড়ার মতো। গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলে সকাল থেকে স্লোগান দিয়ে জড়ো হতে থাকে দলটির নেতাকর্মীরা। সেখানে বর্তমান এমপি ও মনোনয়নপ্রত্যাশী সকলের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শেখ হাসিনা-শেখ হাসিনা এই স্লোগান ছিলো নেতাকর্মীদের মুখে। পাশাপাশি উচ্চারিত হয় নির্বাচনী প্রতীক নৌকা-নৌকা স্লোগানও।
নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় পছন্দের প্রার্থীর ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন দেখা যায় নেতাকর্মীদের হাতে। মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীর প্রতিচ্ছবিখচিত টি-শার্ট শোভা পায় সমর্থকদের গায়ে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি সংবলিত ফেস্টুন দেখা যায় নেতাকর্মীদের হাতে।
শনিবার সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অভিমুখে ছিল জনস্রোত। ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ক্ষমতাসীন দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হন। এখানেই জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হন শেখ হাসিনা। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা হলুদ ক্যাপ ও টি-শার্টে সুসজ্জিত হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ করে। আর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা পরেছেন লাল ক্যাপ ও টি-শার্ট। ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজলের নেতৃত্বে সুসজ্জিত মিছিল বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে সচিবালয়ের দক্ষিন গেইটের সামনে থেকে দোয়েল চত্বরে শোডাউন করছে। একইসাথে ঢাকা-৬ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী, ওয়ারী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু’র নেতৃত্বে এবং কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারশ্যান শাহীন আহমদকে এমপি হিসেবে দেখতে চায় স্লোগানে স্লোগানে মিছিল করে নেতাকর্মীরা। ঢাকা-১৯ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ফারুক হাসান তুহিনের সমর্থকরাও টি-শার্ট গায়ে ফেস্টুন হাতে এসেছেন সোহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গণে। নেতাকর্মীরা মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে এসে শাহবাগ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও মৎস্য ভবন এলাকায় আসেন।
ঢাকার বাইরে থেকেও আসা আওয়ামী লীগের মিছিল চোখে পড়েছে। চানখারপুল এলাকার সামনে থেকে হাইকোর্টের সামনের সড়কে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. জায়েদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ শোডাউন দেন। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত সকাল নয়টায় বিশাল বহর নিয়ে সোনারগাঁও থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আগতরা ঢাক- ঢোলের তালে তালে জয় বাংলা, বাংলার জয়; ভোট দিন ভোট দিন, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে আবারো নৌকায় ভোট দিন স্লোগানে গোটা এলাকা মুখরিত করে তুলেন। চাদপুর-৩ আসনে রেদওয়ান ভাইকে এমপি হিসেবে দেখতে চায় এমন পোস্টার-ব্যানার নিয়ে শাহবাগের মোড়ে মিছিল করেন নেতাকর্মীরা।

loading...
error: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা আংশিক নকল করে বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি