বড়লেখায় রাস্তা নির্মাণে অনিয়ম : বক্স ফিলিংয়ে বালুর পরিবর্তে মাটি

নভেম্বর ২৮, ২০১৮, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ 👉 এই সংবাদটি ৮৩ বার পড়া হয়েছে

Loading...

আব্দুর রব: বড়লেখা-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহা-সড়কের গোয়াল্টাবাজার হতে বর্নি ইউপি অফিস-ঈদগাহবাজার ভায়া আহমদপুর এলজিইডি রাস্তার বক্স ফিলিংয়ে বিট বালুর পরিবর্তে মাটি ব্যবহার হচ্ছে। এলাকাবাসির অভিযোগ নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের অনিয়মের কারণে অল্প দিনে রাস্তাটি নিচের দিকে দেবে যাবে এবং স্থায়িত্ব কম হওয়ায় তাদেরকেই দুর্ভোগ পোহাতে হবে। উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ ভুষণ পাল জানালেন বক্স ফিলিংয়ে পয়েন্ট ৫ এফএম পলি বালু থাকতে হবে। এর কম হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বড়লেখা উপজেলার দাসেরবাজার ইউপির গোয়াল্টাবাজার হতে বর্নি ইউপির আহমদপুর পর্যন্ত ২ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তা পাকাকরণের জন্য ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। চলিত বছরের ২০ আগষ্ট রাস্তাটির কার্যাদেশ পান সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। গত ২ অক্টোবর হতে তিনি কাচা রাস্তায় মাটি কাটার কাজ শুরু করেন। রাস্তার বক্স কাটা শেষে সিডিউল মোতাবেক পয়েন্ট ৫ এফএম পলি বালুর পরিবর্তে তিনি নি¤œমানের টিলার লাল (চাকা) মাটি দিয়ে বক্স ভরাট শুরু করেন। অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে সচেতন মহলে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠিকাদারের লোকজন বিট বালুর পরিবর্তে টিলার লাল মাটি দিয়ে রাস্তার বক্স ফিলিং করছে। এলাকাবাসি মন্তজির আলী, আব্দুল কাদির, রসিম উদ্দিন, সমজিদ আহমদ, সুনাম উদ্দিন প্রমূখ জানান, গত ১৭ আগষ্ট জাতীয় সংসদের হুইপ শাহাব উদ্দিন এমপি রাস্তার পাকার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার মাহবুব আহমদ নির্মাণ কাজ শুরু করেন। রাস্তার সাথে দুইটি কালভার্টও রয়েছে বলে তারা শুনেছেন। কিন্তু ঠিকাদার তা স্বীকার করেননি। বক্স ফিলিংয়ে ব্যবহৃত লাল মাটি হাতে নিয়ে তারা এ প্রতিবেদকের কাছে প্রশ্ন রাখেন, দেখেন এগুলো কি বিট বালু। বিট বালুর পরিবর্তে লাল মাটি ব্যবহার করায় রাস্তাটি নিচের দিকে দেবে গেলে এবং অল্প দিনে ভেঙ্গে গেলে তাদেরকেই দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ ভুষণ পাল জানান, সংশ্লিষ্ট রাস্তার বক্স ফিলিংয়ে বিট বালুর পরিবর্তে লাল মাটি ব্যবহারের অভিযোগ তিনিও পেয়েছেন। এসব মাটি সরিয়ে সিডিউল মোতাবেক বিট বালু দিয়ে ফিলিং করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছেন। এর অন্যতা করলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নির্মাণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার মাহবুব আহমদ বালুর পরিবর্তে মাটি দিয়ে বক্স ফিলিং করার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এগুলো তিনি সরিয়ে ফেলবেন। এসব পত্রিকায় না লিখতেও অনুরোধ করেন।

loading...
error: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা আংশিক নকল করে বা ছবি অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি